• রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৪:১১ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম

৬৬ মরদেহ দাফন ও সংকারে কাজ করেছে সবুজ বাংলাদেশ, ইনাফা, নন্দন ও মেঘ ফাউন্ডেশন

লক্ষ্মীপুরে শেষ বিদায়ের সহায় তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ হয়েছে : শুক্রবার, ৬ আগস্ট ২০২১ | ৪:২৫ pm
                             
                                 

লক্ষ্মীপুরে করোনায় মৃতদেহ দাফন বা সৎকারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সক্রিয় রয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মেঘ ফাউন্ডেশন, নন্দন ফাউন্ডেশন, সবুজ বাংলাদেশ ও ইনাফা। জেলায় এ পর্যন্ত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ৬৬ মরদেহ দাফন ও সৎকারের মাধ্যমে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তারা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সরকারের নির্দেশনা মেনে নিজেরা সুরক্ষিত থেকে লাশ দাফন-সৎকার তারা কাজ করছেন ২৪ ঘণ্টা।

এছাড়াও মেঘ ফাউন্ডেশন-নন্দন ফাউন্ডেশন, সবুজ বাংলাদেশ ও ইনাফা মৃতদের দাফনের পাশাপাশি অসহায় ও গরিবদের জন্য বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সী রেস্পন্স ক্যাটাগরিতে জয় বাংলা সম্মাননা ২০২০ পেয়েছে মেঘ ফাউন্ডেশন।

জানা যায়, করোনা মহামারির শুরুর দিকে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যাক্তির মরদেহ দাফন নিয়ে সংকট দেখা দেয় লক্ষ্মীপুরজুড়ে। সংক্রমনের আশংকায় এ কাজে লোকজনের অনীহা সৃষ্টি হয়। এরকম মৃত্যুর খবর শুনলেই স্বজন ও প্রতিবেশীরা নিরাপদ দূরত্বে গা ডাকা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে জেলায় প্রথমবারের মতো এগিয়ে আসে সবুজ বাংলাদেশ, ইনাফা ও নন্দন ফাউন্ডেশন নামে তিনটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

এদের কারোরই দাফনকাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। তদুপরি মনের ভেতরে মৃদু ভয়। তবুও সময়ের প্রয়োজনে মনের ভয়কে জয় করে তারা নেমে পড়ে দাফন ও সৎকার কাজে। এ পর্যন্ত সবুজ বাংলাদেশ ও ইনাফার কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ৪০ মরদেহ ও মেঘ ফাউন্ডেশন ও নন্দন ফাউন্ডেশন ২৬ মরদেহ দাফন ও সৎকার কার্য সম্পাদন করে। সারাদিনই ওরা প্রস্তুত থাকে কখন কোন মৃত্যুর খবর আসে সেই অপেক্ষায়। কি দিন কি রাত খবর পেলেই ওরা পিপি, হ্যান্ড গ্লাভস, বুট পরে ছুটে যায় সেখানে। সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে সম্পন্ন করে দাফন ও সৎকার কাজ।

সবুজ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাবু জানান, বর্তমান কঠোর লকডাউন পরিস্থিতিতেও তাদের দাফন সেবা চলমান। এ পর্যন্ত ৪০টি লাশ দাফন করতে হয়েছে। ফোন আসলেই দিন কিংবা রাতে ছুটে চলেন তার টিম।

“নন্দন টিম” এর প্রধান রাজু আহমেদ জানান, কাজের শুরুতে স্থানীয় লায়ন ক্লাব এর পৃষ্ঠপোষকতায় তারা টিমের জন্য পিপি, গ্লাভস, গামবুট, হ্যন্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করে। তবে যাতায়াতের জন্য মাইক্রোভাড়া তারা টিমের সদস্যরা চাঁদা দিয়ে ম্যানেজ করে। পরবর্তিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সহ স্থানীয় কয়েক সমাজ হিতৈষী তাদেরকে উপাদান সহযোগীতায় এগিয়ে আসেন। এতে দারুনভাবে উৎসাহিত হয় তারা।

মেঘ ফাউন্ডেশনের প্রধান ফাহাদ বিন বেলায়েত জানান, করোনার শুরুতে স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে আমার টিমের মাধ্যমে প্রথম মৃতদেহ দাফন করা হয়। লক্ষ্মীপুরের স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছি। করোনাকালীন সময়ে মেঘ ফাউন্ডেশন ও নন্দন ফাউন্ডেশন যৌথ ভাবে দাফন ও সৎকার করেছে ১৯টি, সবুজ বাংলাদেশের সাথে ৩ টি ও একক ৪টি সহ ২৬টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। বর্তমানে ফ্্ির অক্সিজেন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এ তরুণ। তার সাথে কাজ করছেন সাংবাদিক রাজীব হোসেন রাজু।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর