• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

সুন্দরগঞ্জে মেয়েকে নিয়ে মা উধাও

আক্তারবানু ইতি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রকাশ হয়েছে : বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ | ৭:২৪ pm
                             
                                 

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ মরুয়াদহ গ্রামের উর্মি আক্তার রেশমাকে (১০) নিয়ে মা আছমা বেগম উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, বুধবার বিকেলে এমন অভিযোগ করে উক্ত গ্রামের মৃত এন্তাজ আলীর পুত্র আঃ রাজ্জাক বলেন, তার চোখে ফাকি দিয়ে গত ৫ আগষ্ট তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী আছমা বেগম মেয়ে উর্মি আক্তার রেশমাকে ঢাকায় নিয়ে গেছে। আছমা সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে। সেখানে সে ২য় বিয়ে করে সে স্বামীকে নিয়ে সংসার ও চাকরির কারণে উর্মিকে কোন একটি কক্ষে আটকে রেখে মানসিকভবে উর্মির জীবনে চরম বির্পযয় দেখা দিয়েছে।

২০০৮ সালে আঃ রাজ্জাক- আছমার বিয়ে হলে এর ৩ বছর পর পরকীয়ার টানে স্ত্রী আছমা ঢাকায় গিয়ে ২য় বিয়ে করে। তাদের একমাত্র মেয়ে উর্মিকে আছমার বড় বোন রাজেনা বেগমের বাসায় থাকে। সেখানে উর্মির কষ্টের অন্ত নেই। অথচ আঃ রাজ্জাকের কাছ থেকে মেয়ে উর্মির ভরন-পোষণ ও খোরপোশ বাবদ মাসিক ২ হাজার টাকা করে গ্রহণ করেন উর্মির নানী মকিজান বেওয়া।

সংসার বিচ্ছেদের পর ঢাকায় অবস্থান অতঃপর ২য় স্বামীকে নিয়ে সংসার করার পরও দাবি করে মেয়ে উর্মিকে নিয়ে গিয়ে অন্যের আওতায় রাখায় সাবেক স্ত্রী আছমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করে আঃ রাজ্জাক নিজ দায়িত্বে মেয়েকে লালন-পালন করতে চান। মেয়ে উর্মিও তার বাবার আওতায় থাকতে ইচ্ছুক। আঃ রাজ্জাক আরও জানান, গত ২ আগস্ট (রবিবার) থানার এসআই রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আকস্মিকভাবে তার বাড়িতে এসে কোনরূপ কাগজপত্র প্রদর্শণ না করেই উর্মিকে নিয়ে আছমার বড় বোন রাজেনা বেগমের কোলে দেন।

এসময় এসআই রফিকুল ইসলাম আঃ রাজ্জাককে বলেছিলেন আছমা তার কর্মস্থলে যাবার সময় রেশমাকে তার (আঃ রাজ্জাকের) কাছে রেখে যাবে। এছাড়া, ঘটনার দিনক্ষণে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী আছমা ও তার বড় বোন (দক্ষিণ মরুয়াদহ গ্রামের মৃত আজাহার আলীর মেয়ে) তাকে নানান ভয়-ভীতি দেখিয়ে উর্মিকে নিয়ে যান। এ ব্যাপারে বাধা দেয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হন আঃ রাজ্জাক। রেশমা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছে।
এনিয়ে কথা হলে আছমা বেগম প্রথমে ২য় বিয়ের কথা অস্বীকার করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তিনি বলেন, ঢাকার সাভারে গার্মেন্টসে চাকরি করায় সারা বছর সেখানেই থাকতে হয়। বাবার বাড়িতে তার নিজস্ব ঘর-দরজা নেই। এবারের ঈদে ৭ দিনের ছুটিতে এসেছেন। যে কোন সময় বাবার বাড়ি আসলে মায়ের ঘরে থাকেন। আছমা, তার বড় বোন রাজেনা বেগম, দুলাভাই মতিয়ার রহমান ও উর্মির সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে কথা বলে জানা গেছে, উর্মি উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর রাজীবপুর (তালের ভিটা) গ্রামের খালা রাজেনা বেগমের বাড়িতে থাকে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে আছমা বেগম জানান, তিনি দেড় বছর আগে থানায় জিডি করেছেন। তাই তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে থানা পুলিশকে ডেকে এনে মেয়ে উর্মিকে তার বাবা আঃ রাজ্জাকের বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছেন। এ ব্যাপারে ছাপড়হাটি ইউনিয়ন জাতীয় কৃষক পার্টির সভাপতি এনামুল হক জানান, এসআই রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একজন কনস্টেবল ছিলেন। সেখানে ছাপড়হাটি ইউনিয়ন জাতীয় কৃষক পার্টির সভাপতি এনামুল হকসহ গ্রামের অনেকেই ছিলেন।
এ ব্যাপারে এসআই রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কয়েকদফা মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করে তাকে না পেয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন সারা পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 53
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর