• বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪১ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যন্ত্রপাতি থাকলেও অযত্নে পড়ে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সরঞ্জাম

উপজেলা সংবাদদাতা
প্রকাশ হয়েছে : বুধবার, ৭ জুলাই ২০২১ | ৭:৫৪ pm
                             
                                 

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে অযত্নের অভাব পড়ে আছে কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম, নেই দক্ষ জনবল। স্থানীয়রা বঞ্চিত হচ্ছে পরীক্ষাসহ নানা সু-যোগ সুবিধা থেকে,অযত্ন ও অবহেলায় বছরের পর বছর পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে ইসিজি,আলট্রাসনোগ্রামের মত স্বাস্থ্যসেবার সরঞ্জামগুলো। এক্স-রে মেশিন ও টেকনিশিয়ান থাকলেও রুম সংস্কার না হওয়ায় অচল অবস্থায় পড়ে আছে অনেক বছর ধরে। ফলে ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চকরিয়ায় গিয়ে তিনগুণ বেশি টাকায় শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্র জানায়,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কতৃক গত ২০১৬ সালে একটি আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র এর পরে গত ২০১৭ সালের দিকে একটি ইসিজি,পুরাতন এক্স-রে মেশিনের পাশাপাশি নতুন এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দেয় কিন্তু এক্স-রে টেকনিশিয়ান ছাড়া বাকীগুলো চালানোর মত দক্ষ কোন টেকনিশিয়ান নেই।

সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়,একটি রুমে আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে,পাশে একটি দন্ত চেয়ার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ইসিজি ও এক্স-রে রুমে তালা দেওয়া ও অস্ত্রাপাচার রুমটি গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া রোগী ফাইজুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে কি কি মেশিন আছে জানিনা।ডাক্তার, রক্ত পরীক্ষা ও বেড ছাড়া আর কিছু নেই মনে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, আমি ফুটবল খেলার সময় পায়ে আঘাত পেয়েছিলাম কিন্তু এক্স-রে করতে চকরিয়া যেতে হয়েছে। আহত অবস্থায় গাড়ীতে করে চকরিয়া যাওয়া, আসা ও পরীক্ষা করতে একটি দিন চলে গেছে। পায়ের ব্যথা নিয়ে খুবই কষ্ট পেয়েছি। এক্স-রে টা যদি এখানে করতে পারতাম এত দূর্ভোগ ও যন্ত্রণা পেতে হতনা।

আনোয়ারা বেগম বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হলেও বিভিন্ন পরীক্ষা বাইরে করতে হয়, আর পরীক্ষা করতে বাইরে টাকা বেশী দিতে হয়।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রেডিওগ্রাফি জহিরুল হক বলেন,ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম চালানোর মত লোক নেই। এক্স-রে মেশিন পুরাতনের পাশাপাশি আরেকটি আনা হয়েছে। পুরাতন রুমে বৃষ্টির পানি পড়ায় চালু করা যাচ্ছে না। নতুন ভবনে স্থাপনের পর চালু করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ডেল্টাল সার্জন থাকলেও প্রেষণে অন্যত্র চলে গেছে কিন্তু কিছু কিছু ডেন্টাল সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়ে গেছে। সার্জন না থাকায় এখন সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে থাকবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী জানান,ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র চানানোর জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। মেশিনের চেয়েও দক্ষ লোকবল বেশী প্রয়োজন, যেসব মেশিন আছে সেগুলো চালানোর জন্য লোকবল প্রয়োজন তা এখন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই। উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদে লোকবল চেয়ে চাহিদা পত্র দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর