• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০২:১৫ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

হারিয়ে যাওয়া মাকে ১৫ বছর পর খুঁজে পেলো সন্তান

রনজিৎ বর্মন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
প্রকাশ হয়েছে : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১২:৫৭ am
                             
                                 

গর্ভধারিনী মা কে এভাবে খুঁজে পাব এমন করে দেখা হয়ে যাবে স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। মাকে যে কত খুঁজেছি তা এক মাত্র ঈশ্বর জানেন। সেই ঈশ^র আজ আমাদের মাকে এখানে পাইয়ে দেওয়ার জন্য হয়ত এই বিয়ে বাড়ীতে নিয়ে এসেছিল।

এ সকল কথা গুলি বলতে বলতে আনন্দে চোখের অশ্রু ঝরিয়ে ফেললেন বাগেরহাট জেলার আলামিন ও আলাউদ্দিন। তাদের বাড়ী বাগেরহাট জেলার মংলা থানার জিরোধারা বাজি ঘরখোল্ড গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মানসিক ভারসাম্যহীন গর্ভধারিনী মাতা নাসিমা বেগম(৭০) ১৫ বছর পূর্বে হারিয়ে যায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বহু খোঁজাখুঁজি করে মায়ের সন্ধান না পেয়ে তারা ভরসা হারিয়ে ফেলে।

গত শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরাতে দুই ভাই আলাউদ্দিন ও আলামিন একটা বিয়েতে আসেন এবং জানতে পারেন এখানে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ৭০ বছর বয়স্ক নারী বাজারের একটি ঘরে থাকেন। পরবর্তীতে তারা সেখানে যেয়ে দেখতে পান তাদের হারিয়ে যাওয়া সেই গর্ভধারিনী মাতা নাসিমা বেগম। মাতাকে পেয়ে দুই সন্তান আনন্দে অশ্রু ঝরিয়ে ফেলেন।

গাবুরার স্থানীয় বাসিন্দা হুদা মালি জানান উপজেলার গাবুরার ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বাজারে প্রায় ২ বছর ধরে তিনি রয়েছেন।
গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম এ বিষয়ে বলেন দুই বছর পূর্বে উদ্দেশ্যহীনভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন নারী নাসিমা বেগম ঘোরাফেরা করতে থাকে। এমন অবস্থা দেখতে পেয়ে তাকে চাঁদনীমুখা বাজারের একটি দোকানে আশ্রয় দেওয়া হয় এবং সেই থেকে এখনও আছেন। কিন্ত তিনি তার সঠিক নাম ঠিকানা বলতে না পারায় তাকে বাড়ীর ঠিকানায় পেীঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন তার দুই সন্তান ১৫ বছর পূর্বে হারিয়ে যাওয়া মাকে খুঁজে পেয়ে সনাক্ত করার মধ্য দিয়ে শুক্রবার বিকালে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

হারিয়ে যাওয়া নাসিমা বেগমের স্বামীর নাম মোঃ আব্দুল হাই শেখ। নাসিমা বেগমের ছোট পুত্র আলাউদ্দিন শেখ বলেন তারা তিন ভাই ও চার বোন। বাড়ী মংলা থানার জিরধরা গ্রামে। তিনি বলেন বহু খোঁজাখুঁজি করার ১৫ বছর পর মাকে পেয়ে আমরা খুব খুশি,আনন্দিত। বাড়ীতে এখন আব্বাও মাকে পেয়ে যেন নতুন জীবন খুঁজে পেয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 5
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর