• শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪৯ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

তাহিরপুরে অজ্ঞাত বৃদ্ধাকে নিয়ে বিপাকে মধ্যবিত্ত পরিবার

কামাল হোসেন, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ হয়েছে : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮:০০ pm
                             
                                 

নাম-পরিচয়হীন এক বৃদ্ধা মহিলাকে আশ্রয় দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের পুরানঘাট গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের কলেজ পরোয়া ছাত্র নিয়ামত উল্লাহ ও তার পরিবার পড়েছে অনেক বিপাকে আর বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি মধ্যে। তার ঠিকানার খুঁজে এখন হন্নে হিয়ে খোজাখুজি করছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

গ্রামবাসী ও নিয়ামত উল্লাহ’র পরিবার জানায়, আনুমানিক ৬৫ কিংবা ৭০ বছরের নাম পরিচয় হিন এই অজ্ঞাত বৃদ্ধা মহিলা গত ২১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যার সময় উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের পুরানঘাট গ্রামের রাস্তায় দেখতে পেয়ে পাগল মনে করে গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা পাগলী পাগলী ডাক চিৎকারে ওই মহিলাকে তাড়া করলে এক পর্যায়ে বৃদ্ধ মহিলাটি রাস্তার পাশে কাঁদায় পড়ে যায়। পরে ওই বৃদ্ধ মহিলা গ্রামের ছেলেমেয়েদের এমন আচরণে ভয় পেয়ে কাঁদে থাকে। এসময় পুরানঘাট গ্রামের মোহাম্মদ নিয়ামত উল্লাহ’র স্কুল পড়ুয়া ছোট ভাই ইকরাম হোসেন (১৫) তা দেখতে পেয়ে ওই বৃদ্ধাকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে রাতে নিয়ামত উল্লার পরিবার এই অসহায় বৃদ্ধাকে মানবিক বিবেচনায় গোসল করিয়ে রাতের খাবার খাইয়ে থাকার জন্য বাড়িতে আশ্রয় দেয়। রাত ১১টার বাদাঘাট বাজার থেকে নিয়ামত উল্লাহ বাড়ি ফিরে ওই বৃদ্ধা মহিলাকে দেখে তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি কিছুই বলে চুপ করে থাকেন।

পরদিন সকালে নিয়ামত উল্লাহ অজ্ঞাত বৃদ্ধার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংবাদকর্মীদের অবহিত করেন। বৃদ্ধাকে তাঁর আপন ঠিকানায় পৌঁছে দিতে নিয়ামত উল্লাহ ও ইমরাজুল হক মিরাজ নামে দুই যুবক গ্রামে গ্রামে মানুষকে জানান দিতে শুরু করেন। তাদের উদ্দেশ্য, বৃদ্ধা মানুষটি তাঁর স্বজনদের ফিরে পাক।

তবে এই বৃদ্ধাকে তাঁর স্বজনরা ঘর থেকে বের করে দিয়েছে, না স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছেন, নাকি পথ ভুল করে এসেছেন তা আদৌও জানা যায়নি।

মোহাম্মদ নিয়ামত উল্লাহ বলেন, বৃদ্ধ মহিলাটি গত দুদিন ধরে আমাদের আশ্রয়ে আছে। প্রতিকূল পরিবেশের এই বিরূপ আবহাওয়ায় আশ্রয় না দিয়ে বয়স্ক বৃদ্ধাকে রাস্তায় বের করে দিতে বিবেকে বাঁধা দেয়। আর চলমান করোনাকালীন সময়ে আমাদের নিজেদের সংসারেই টানাপোড়া। এমতাবস্থায় এই বৃদ্ধ মহিলার সেবা-সূশ্রুষা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়াটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়দল (উঃ) ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, আমি ইতিমধ্যেই আশ্রয়দাতাকে বলে দিয়েছি যে আগামীকাল ওই বৃদ্ধ মহিলাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসতে। আমরা তাকে সার্বিক সহযোগিতা করবো।

তাহিরপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ তরফাদার বলেন, অসহায় বৃদ্ধ মহিলাকে যারা আশ্রয় দিয়েছেন, তারা মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আমি শীঘ্রই আমি তাদের সাথে যোগাযোগ করবো এবং আমার বিট অফিসারদের সহযোগিতায় বৃদ্ধ মহিলার যথাযথ ঠিকানা খুঁজে দিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 3
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর