• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:১৪ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

৪৩টি দেশে রপ্তানী হচ্ছে রায়পুরের বেঙ্গল সু’র পন্য

উপজেলা সংবাদদাতা
প্রকাশ হয়েছে : সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২০ | ১:৫১ am
                             
                                 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার রাখালিয়ায় অবস্থিত বেঙ্গল সু ইন্ড্রাষ্ট্রির উৎপাদিত পন্য দেশের সীমানা পেরিয়ে চলে যাচ্ছে বিশ্বের ৪৩টি দেশে। সাথে লক্ষ্মীপুরকে নিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব দরবারে। দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইতালি, জাপান, আমেরিকা, কানাডা, জার্মান, ভারত, চায়না ও ফ্রান্স।

শতভাগ রপ্তানিমুখী অত্যাধুনিক এ প্রতিষ্ঠান থেকে গত অর্থ বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার জুতা রপ্তানি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার নারী পুরুষ কাজ করছে এ প্রতিষ্ঠানে।

প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার নজরুল ইসলাম বলেন, বেঙ্গল সু যে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে তার অংশীদার লক্ষ্মীপুরবাসী। প্রায়সময় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ক্রেতাদের প্রতিনিধি (বায়ার) সরাসরি রাখালিয়ায় অবস্থিত বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শনে আসে। বায়াররা লক্ষ্মীপুরের মতো এলাকায় কাজের মান, পরিবেশ, শ্রমিক দেখে সন্তুষ্ট হয়। ইতালি, ফ্রান্স, চিন, যুক্তরাজ্য বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজের সু র প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন নিয়মিত। শুধু জুতাই নয় বেঙ্গল লেদার থেকে মানিব্যাগ, পার্টস, সাইট বেগ সহ নানা ব্যবহার যোগ্য পণ্য উৎপাদিত হয় এ প্রতিষ্ঠানে।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল তৎকালীন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং ২৬ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী কোম্পানিটি পরিদর্শনে আসেন।

জানা যায়, ১৫ একর ৭৩ শতাংশ জমির উপর অবস্থিত কারখানাটি ২০১১ সালে সু উৎপাদন শুরু করে। শুরু থেকে এই কোম্পানি আন্তর্জাতিক মানের জুতা ও চামড়াজাত পণ্য তৈরি করে আসছে। গ্রামের দুস্থ, অসহায় ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের জুতা তৈরিতে প্রশিক্ষিত করা হয়। এ কারখানায় বর্তমানে দেড় হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। বেকারত্ব নিরসনে ভূমিকা রেখেছে ব্যাপক ভাবে প্রতিষ্ঠানটি। এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা করছে নিয়মিত এই ফ্যাক্টরি।

প্রাভেটাইজেশন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সনে রায়পুর উপজেলার রাখালিয়া বাজার সংলগ্ন স্থানে সম্পূর্ণ সরকারি উদ্যোগে স্থাপিত হয় নোয়াখালী টেক্সটাইল মিল। ক্রমান্বয়ে বৃহৎ অংকের লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যে সরকার ১৯৯৩ সনে মিলটি লে-অফ ঘোষণা করে। বাংলাদেশ সরকারের বেসরকারিকরণ নীতিমালার আওতায় নোয়াখালী টেক্সটাইল মিলটি বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের লক্ষ্যে প্রাইভেটাইজেশন কমিশন ৯বার টেন্ডার আহবান করে ব্যর্থ হয়ে ২০০৪ সনে ১০ম বারের মত টেন্ডার আহবান করলে আলী হায়দার চৌধুরীসহ অপরাপর মালিকগণ মিলটির সর্বোচ্চ মূল্য ৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ডাকের মাধ্যমে মিলটি ক্রয় করেন।

২০০৪ সনের ১২ জুলাই বিটিএমসি কর্তৃক ১৫.৭৩ একর ভূমিসহ মিলটির দখল হস্তান্তর করে। ২০০৬ সনের ৭ জুন মালিকানা চুক্তি সম্পাদিত হয়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ সরবরাহে অপ্রতুলতা ও গ্যাস সংযোগ না থাকায় মিলটি টেক্সটাইল মিল হিসেবে ফের চালু করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া মিলের অভ্যন্তরীণ মেশিনারিজ-যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় থাকার কারণে অকেজো হয়ে যায়।

অন্যদিকে মিলটির ক্রয়কারীগণের প্রধান ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান মেসার্স বেঙ্গল লেদার কমপেক্স লিঃ ১৯৮৩ সন হতে অত্যন্ত সুনামের সাথে প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানী করে আসছে। এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনীতিতে রাখছে বিশাল অবদান। তাই বেঙ্গল লেদার এখানে কাপড়ের পরিবর্তে জুতা উৎপাদন শুরু করে।

রায়পুর বেঙ্গল সু ইন্ড্রাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতান বলেন, পরিবেশবান্ধব এ কারখানা বিভিন্ন দেশে জুতা রপ্তানি করে এরই মধ্যে সুনাম অর্জন করেছে। এ অঞ্চলের শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মেধাভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এ প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি বলেন, গ্যাস সংযোগ না থাকায় উৎপাদন ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে যায় এজন্য উদ্দেশ্যে সফলে ব্যহত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 19
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর