• বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

কেশবপুরে পাটের বাম্পার ফলন

আবু হুরাইরা রাসেল কেশবপুর (যশোর)
প্রকাশ হয়েছে : শনিবার, ২ মে ২০২০ | ১১:১০ pm
                             
                                 

কেশবপুরে রোপা পাটের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকরা তাদের পাটক্ষেতে সময়মত পরিচর্যা করার কারণে এই সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চলতি বছর উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে পাট রোপন করেছে কৃষকরা। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে সময় মত পাট কেটে ঘরে তুলতে পারবেন বলে জানান। শ্রমের দাম বেশী হলেও কৃষকরা পাট বিক্রি করে লাভবান হবেন বলে অনেকেই আশাবাদী।’

শনিবার (০২ মে) বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, মাঠ জুড়ে পাট আর পাট। তবে কৃষকরা বলছেন, পাটের ফলনের ভালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।, নিড়ানীর সুবিধার কারণে আধুনিক এ পদ্ধতির পাট চাষ এলাকা ভেদে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এক সময় পাটের ব্যবহার বেশী হওয়ায় একে সোনালী আঁশ বলা হতো।’

কিন্তু বর্তমান প্লাস্টিক ও প্লাস্টিক সুতার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এ সোনালী আঁশের বাজারে ধস নেমেছিল। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা পাটের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। এমন সময় কেশবপুর উপজেলার কৃষকরা অল্প খরচে অধিক ফলন পেতে উদ্ধোবন করেন রোপা পদ্ধতিতে পাটের  চাষাবাদ।

পরীক্ষামূলক চাষাবাদে কৃষকরা বাম্পার ফলন পাওয়ায় এ বছরে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করেছে। উপজেলার মজিদপুর, মঙ্গলকোট, বিদ্যানন্দকাটি, কেশবপুর সদর, পাঁজিয়া, সুফলাকাটি, গৌরিঘোনা, ত্রিমোহিনী, সাতবাড়িয়া, সাগরদাঁড়ি, হাসানপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষকরা এ পদ্ধতির পাট চাষে ঝুঁকে পড়েছে।

অধিকাংশ কৃষক ক্ষোভের সাথে বলেন, পাটের পাটকাঠি একটি উৎকৃষ্টমানের জ্বালানী হিসেবে পরিচিত। খরচ না উঠলেও অনেক কৃষক জ্বালানীর জন্য পাটের আবাদ করে থাকেন। মজিদপুর গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন, জামাল হোসেন, ব্রহ্মকাটি গ্রামের আব্দুল লতিফ, তারিফ মোড়ল, রামচন্দ্রপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম, খোকন সরদারসহ উপজেলার অনেকেই পাট চাষীরা জানান, আমরা অনেক বছর আগে থেকে এ পদ্ধতিতে পাটের আবাদ করে আসছি। এ বছরও আমরা পাট চাষ করেছি।’

সরেজমিনে পাট চাষীদের ক্ষেত পরিদর্শনকালে তারা সাংবাদিকদের জানান, ১৫ চৈত্র বৃষ্টিপাত হওয়ায় ধানের বীজ তলার মত পাটের বীজতলা তৈরী করে বীজ রোপন করেন। ২২ দিন বয়সের চারা তুলে ক্ষেত তৈরী করে নির্দিষ্ট ব্যবধানে সেখানে পাটের চারা রোপণ করেছিলেন। চারার বয়স ১০ দিন হলে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করেন। তাদের পাট মাঠের মধ্যে সেরা হওয়ায় তারা বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তবে কৃষকরা আশা করেছে এবার পাটের মূল্য বেশী পাবে।কৃষক সমাজ বলে আমরা আশা করছি প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে সুন্দর পরিবেশে পাট ঘরে তুলতে পারবো এবং লাভবান হবো।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, এবার উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে পাট রোপন করেছে কৃষকরা। সময় মত পাট কেটে তারা ঘরে তুলতে পারবেন এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে কৃষকরা পাট বিক্রি করে লাভবান হবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর