• রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

ইউনিয়ন পর্যায়ে শতভাগ পূর্ণাঙ্গ মাতৃত্ব সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন ডা:মামুন

কারেন্ট বার্তা ডেক্স
প্রকাশ হয়েছে : সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২০ | ৬:৪১ pm
                             
                                 
লক্ষ্মীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. আশফাকুর রহমান মামুন

লক্ষ্মীপুরে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে শতভাগ মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করতে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন লক্ষ্মীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা: আশফাকুর রহমান মামুন। প্রতিনিয়ত স্বশরীরে পরিদর্শনসহ সার্বক্ষনিক মনিটর করে যাচ্ছেন এসব কেন্দ্রগুলো। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ যাতে ঘরের পাশেই জেলা সদরের সেবা পায় তা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।

এছাড়াও পরিবার পরিকল্পনা ক্ষেত্রে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবায় লক্ষ্মীপুর জেলায় কার্যক্রমে যিনি বলিষ্ট ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন এবং যার নেতৃত্বে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ এগিয়ে যাচ্ছে, তিনি এ বিভাগের উপ-পরিচালক, ডাঃ আশফাকুর রহমান মামুন। চিকিৎসক কর্মকর্তা হওয়ার কারণে তিনি যেমন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন, পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে মা ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তার প্রমাণ লক্ষ্মীপুর জেলার প্রায় সব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র গুলোতে ২৪ ঘন্টায় সপ্তাহের ৭ দিনই প্রসব সেবাসহ, গর্ভকালীন সেবা দেয়া হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যিনি উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মার্তৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর জন্য যিনি এম ডি জি পুরষ্কার, টিকাদান কর্মসূচীকে সফল করায় ভ্যাকসিন হিরো এওয়ার্ড সহ বিভিন্ন পুরষ্কার ও উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। আর এই মার্তৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যু কমানো সহ মা ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে ‘‘প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবা’’র বিকল্প নেই। সেই উদ্দেশ্যকে সফল করতে লক্ষ্মীপুর জেলার সকল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪/৭ প্রসব সেবা চালুর মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারী বৃন্দ। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা এবং উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সার্বক্ষনিকভাবে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে অবস্থান করে এ কার্যক্রমকে সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সহায়ক শক্তি হিসেবে আছেন মাঠ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও পরিবার কল্যাণ সহকারী গণ।
সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টাই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসব সেবা পাওয়া যাচ্ছে। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মাঠ কর্মীরা বিনামূল্যে এ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বেড়েছে মাঠ কর্মীদের জবাব দিহিতা। এতে শিশু ও মার্তৃ মৃত্যুর হার কমছে।
লক্ষ্মীপুর জেলায় আসলেই এই কার্যক্রম চোখে পড়ার মত। গত ২০১৮ জুলাই থেকে ২০১৯ জুন পর্যন্ত ৭৭৩০ জনকে এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০৩০৭ জনকে প্রসব সেবা দেয়া হয় যা বাংলাদেশের মধ্যে প্রথমস্থান লাভ করেছে। সারাদেশে ১ম ১০টি শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মধ্যে ০৩ টিই লক্ষ্মীপুর জেলার। এগুলো হচ্ছে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন এবং রায়পুরের কেরোয়া ও বামনী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। এখানে ইউপি চেয়ারম্যানগণ ও মা মনি এইচ এস প্রকল্প বিভিন্ন অবকাঠামোসহ যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে এই কার্যক্রমকে সহায়তা করছেন।
চলমান কোভিড-১৯ এর ক্রান্তিকালেও মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সমূহে ২৪/৭ প্রসব সেবা চালু আছে। লকডাউন সময়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রই ছিল লক্ষ্মীপুর বাসীর একমাত্র আশা-ভরসার স্থল। তাছাড়া এই কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ এর এভি ভ্যান দ্বারা জনসচেতনতামূলক মাইকিং ও সড়ক প্রচার কার্যক্রম সবার দৃষ্টি কাড়ে।
এ ব্যাপারে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক, ডা. আশফাকুর রহমান মামুন বলেন- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে ১৬ ই ডিসেম্বর নব দিগন্তের উম্মোচন হয় বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ এর মধ্য দিয়ে। তারই ধারাবাহিকতায় তাঁর সুযোগ্য কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অধীন স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ এ বিষয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন করে আসছে। তারই ফলশ্রুতিতে আমাদের মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যু হার কমে আসে যা ১৯৯০ সালে মাতৃ মৃত্যু ছিল লাখে ৫৭৪ জন আর শিশু মৃত্যু ছিল হাজারে ১৪৪ জন। ২০০০ সালে মাতৃ মৃত্যু ছিল প্রতি লাখে ১৭০ জন আর শিশু মৃত্যু ছিল প্রতি হাজারে ৮৮ জন। বর্তমানে ২০২০ সালে মাতৃ মৃত্যু প্রতি লাখে ১৪৩ জন আর শিশু মৃত্যু প্রতি হাজারে ৩২ জন।
তিনি আরো বলেন- দায়িত্ব প্রাপ্তদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ কার্যক্রমে এসেছে আশাতীত গতিশীলতা। তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুর উপকূলীয় নদী ভাঙ্গন পীড়িত একটি ছোট জেলা। এখানে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মূল সমস্যা জনবল। কোন কোন ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সমস্যাও আছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণের সহযোগীতায় জনবল এবং হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট যদি তাদের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আরো দায়িত্বশীল হন তবে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব।

আমাদের মূল লক্ষ্য লক্ষ্মীপুর জেলায় শতভাগ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবা নিশ্চিত করা এবং মার্তৃ মৃত্যু শুন্যের কোটায় নামিয়ে আনা। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘‘সুস্থ্য মা সুস্থ্য শিশু কমলনগর মডেল’’ নিয়ে কাজ করছেন। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে এ উপজেলায় শতভাগ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবা, মার্তৃ মৃত্যু শূন্যের কোটায়, শতভাগ শিশু ও কিশোরীদের ইপিআই কর্মসূচীর আওতায় আনা সহ মা ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিশাল পরিবর্তনে আশাবাদী। তিনি আরো বলেন এই কার্যক্রমকে সফল করতে একক ভাবে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ নয়, প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ, ইসলামী ফাউন্ডেশন সহ সকলে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালিক ও মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এর সচিব আলী নূর এর কর্মসূচী বাস্তবায়নে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মহাপরিচালক শাহান আরা বানুর দিক নির্দেশনা এবং অধিদপ্তরের পরিচালক এবং লাইন ডাইরেক্টর ডা. মোহাম্মদ শরীফের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এ কাজ পরিচালিত হচ্ছে এবং জেলা পরিবার পরিকল্পনা কমিটির সভাপতি ও লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালের সুযোগ্য নেতৃত্বে এবং দিক নির্দেশনায় এই কাজকে বাস্তবায়িত করতে মূখ্য ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরো বলেন প্রাক্তন সিভিল সার্জন, বর্তমানে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন ডা. মোস্তফা খালেদ আহমেদ এবং বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল গফ্ফার তার অধিনস্থ সকল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বৃন্দ এবং মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সিএইচসিপি সহ সকলের সহযোগীতা এই কাজকে তরান্বিত করেছে। পরিশেষে তিনি তার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকল স্তরের কর্মচারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশেষত উপজেলা পর্যায়ের মেডিকেল অফিসার গনের আরো সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং গতিশীলতা এই কর্মসূচীকে বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করবে। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার জন-প্রতিনিধি সহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। আরো সহযোগীতা পেলে আগামী ২০২২ সালের মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলায় শতভাগ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবা এবং মাতৃ মৃত্যু শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে তার দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 3
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর