• রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৩ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম

লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষে আহত বাবরের আবেগঘন স্ট্যাটাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ হয়েছে : শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১২:৫৮ am
                             
                                 

লক্ষ্মীপুরে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতাদের বরণ করতে অপেক্ষমান থাকা দুই পদ প্রত্যাশী নেতা ও তাদের সমর্থক এবং জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তাদের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের পদ প্রত্যাশী সৈয়দ নুরুল আজিম বাবরসহ অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন।

জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত সাবেক ছাত্রনেতা সৈয়দ নুরুল আজিম বাবর ২৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১২টার দিকে তার ফেসবুক আইডিতে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি নিজের জীবনের ১৯টি বছর ও দলের জন্য আন্দোলন সংগ্রামের বর্ণনা দিয়েছেন।


কারেন্ট বার্তার পাঠকদের জন্য তার ফেসবুক স্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
কি অন্যায় করেছিলাম আমি? কেন আমার উপর এই হামলা? এই দলের জন্য, এই রাজপথে নিজের জীবনের সোনালী সময়কে দলের জন্য বিলিয়ে দিয়েছি।। আজ এই রাজপথে দাঁড়ানো আমার অপরাধ!!? দীর্ঘ ঊনিশ বছর দলের জন্য কারাবরণ করার পর আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য রাজপথে দাঁড়িয়েছিলাম। এটা আমার অপরাধ? আমাদের রাজনীতির সুফল তারাই তো ভোগ করছে। আমাদের কাছে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত ছিল অথচ তারা আজ জোট সরকারের মতো আমাদের উপর হামলা করেছে। নব্বই দশক থেকে আমি তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম, নেতৃত্ব দিয়ে দিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। এসবই আপনারা অবগত আছেন।
বিনা উস্কানিতে সালাউদ্দিন টিপু কেন এতো নগ্ন হলো? সেদিন তো যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে বরণ করে নেওয়ার জন্য সাবেক ছাত্রলীগের অনেক নেতা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। তাহলে আমাকে কেন টার্গেট করা হলো? এই হামলা কি প্রমাণ করে না দুঃসময়ে আমার সহযোদ্ধা নেতাকর্মীদের উপর এরা কেমন আচরণ করেছে?
আজ কিছু প্রশ্ন জাগে মনে.. আমরা রাজপথে থাকলে তারা কেন ভয় পায়? রাজপথ থেকে জোট সরকার আমাদেরকে বিতাড়িত করতে চেয়েছে। এরা কেন জোট সরকারের মতো একইভাবে আমাদেরকে রাজপথ থেকে বিতাড়িত করতে চায়?
বিএনপি জামাত জোটের আর টিপু দের রাজনীতির লক্ষ্য একই নয়? আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের শেষ করে দেয়া?
এরা বঙ্গবন্ধুর নৌকার সাথে বেইমানি করেছে এবং যারা নৌকার ভোট করেছিল তাদেরকে হামলা-মামলা দিয়ে কোণঠাসা করে রেখেছে লক্ষ্মীপুরে। এরা কথায় কথায় নিজেদের ত্যাগী বলে প্রচার করে! দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা কখনো বলে না কেন?
লক্ষ্মীপুরে জামাত-বিএনপিকে এরা আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে! জামাতের সাথে আত্মীয়তার বন্ধনের কথা আপনারা সবাই জানেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কেন তাদেরকে ভয় পায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই সব রহস্যের সমাধান হয়ে যাবে। এখন আমাদের সামনে একটাই পথ খোলা আছে। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোট সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী এই অশুভ শক্তির হাত থেকে আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে হবে।
আওয়ামী নেতাকর্মীর রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হতে আর দেওয়া হবে না।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু।

প্রসঙ্গ: ২১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর ১২ টায় জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানাতে অপেক্ষমান থাকা নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর