• বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ০১:৪৯ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

লক্ষ্মীপুরের রাজনীতির হালচাল-১

দলে বড় নেতা, মাঠে নিষ্কিয়

কারেন্ট বার্তা ডেক্স
প্রকাশ হয়েছে : সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০ | ১১:৫৮ pm
                             
                                 

মহামারি করোনাভাইরাসের ক্লান্তিকালে সরকার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন, বিরোধী দল সহ অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গরীব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়েছেন উপহার সামগ্রীও। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মাঠে দেখা গেলেও নিষ্কিয় অবস্থায় রয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান। তিনি করোনার এ ক্লান্তিকাল ছাড়াও গেলো বছরে ক্যাসিনো কান্ডের পর থেকে লক্ষ্মীপুরে তাকে দেখা যাচ্ছে না। এতো বড় বিপদের সময়ও জেলা যুবলীগের ২য় এ অভিবাবককে পাশে না পেয়ে তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি শুধু দলের মধ্যে বড় নেতা কিন্তু মাঠে নিষ্কিয় রয়েছেন বলে দলীয় একটি সুত্র জানায়।

জানা যায়, নোমান কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানের ঘনিষ্ট লোক ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ঘনিষ্ট ও বিশ^স্ত হওয়ায় ওই সময়ে নোমানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্নস্থানের কয়েকটি জেলা ও উপজেলা কমিটি দেওয়ার নামে আনিস বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এক্ষেত্রে নোমানের ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করা হয়। ক্যাসিনো সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযানের সময় নোমান আত্মগোপনে চলে যায়। ওই সময় কিছু গণমাধ্যমে নোমান আত্মগোপনে রয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

এর আগে নোমান জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার কিছুদিন পরে পুলিশকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৭৫জন যুবলীগ নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই মামলার ১২ নম্বর আসামি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান ১০ জানুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে জামিনে মুক্তি পান।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২রা নভেম্বর একেএম সালাহ উদ্দিন টিপুকে সভাপতি ও আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাধারণ সম্পাদক করে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষনা করা হয়। এর আগে নোমান ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। আনিছের ঘনিষ্ঠ লোক হওয়ায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা থেকে লাফ মেরে জেলা যুবলীগের শীর্ষ পদে আসীন হয় নোমান। এর পর থেকে জেলা যুবলীগের কিছু সংখ্যক সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করলেও রাজনীতিতে তার সক্রিয় ভূমিকা না থাকায় দলটিতে কিছুটা ভাটা পড়ে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক যুবলীগ নেতা এসব অভিযোগ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, জেলা যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে নোমান। সম্প্রতি রায়পুর উপজেলা যুবলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ না হতেই অর্থের বিনিময়ে নতুন কমিটি দেওয়ার অভিযোগ উঠে। ওই কমিটিতে স্থান পায় কুয়েতে মানবপাচারের অভিযোগে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাংসদ কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের অনুসারীরা। বিষয়টি কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে অভিযোগ গেলে নতুন কমিটি বাতিল করা হয়। এছাড়া জেলাজুড়ে এ পর্র্যন্ত প্রায় ৬৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে টেন্ডার ভাগবাটয়ারার মাধ্যমে। এসব টাকায় গেলো বছর একটি নতুন মডেলের গাড়ি ক্রয় করেন বলেও অভিযোগ উঠে জেলা যুবলীগে হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসা এ নেতার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের মুঠোফোনে ফোন দিলেও সাড়া মেলেনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 47
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর