• বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ১০:৫৪ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

বিপাকে বাঘারপাড়ার মৃৎশিল্পীরা

অনুপম দে বাঘারপাড়া (যশোর)
প্রকাশ হয়েছে : রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০ | ৭:৩৪ pm
                             
                                 

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য। এক সময় মাটির তৈরি হাড়িপাতিল, খেলনাসহ বিভিন্ন সামগ্রীর যে চাহিদা ছিল, এখন তা অনেকটাই কমে গেছে। শহুরে জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা গ্রামীণ জনজীবনেও কমে গেছে এই মৃৎশিল্পের ব্যবহার।

অথচ একটা সময় মৃৎশিল্পীদের গড়া মৃৎপাত্র দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ ছিল। এখন মানুষের চাহিদা এবং রুচিতে পরিবর্তন আসায় মৃৎসামগ্রীর ব্যবহার দিন দিন কমে আসছে। প্লাস্টিক আর এলুমিনিয়ামের ভিড়ে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের চাহিদা কমেছে। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবহার কমলেও বেড়ছে পোড়ামাটির গৃহসজ্জার চাহিদা। সরকারের পৃষ্টপোষকতা পেলে আবারো হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে পারে বলে মনে করছেন বাঘারপাড়া উপজেলার মৃৎশিল্পীরা। উপজেলার ধলগ্রাম ও দরাজহাট পালপাড়ার বেশ কিছু পরিবার এখনো আঁকড়ে ধরে আছেন এই শিল্প।

ভাগ্যের পরিবর্তন না হলেও পৈত্রিক পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন অনেকেই। পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও সরা-বাসুন গড়ার কাজে সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকেন। আয়ের অন্য কোন উৎস না পেয়ে জীবিকার তাগিদে অনেকেই পুরনো এই পেশা ধরে রেখেছেন বলে জানান। কোনরকম আয় করে পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর,দরাজহাট,জহরপুর,ধলগ্রাম ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বাস এসব মৃৎশিল্পীদের। বাঘারপাড়া উপজেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে দরাজহাটের পালপাড়া। চল্লিশ-পঞ্চাশ ঘর পাল পরিবার বসবাস করে এখানে। পেশার পরিবর্তন করেছেন অনেকে।

এখানে পালেরা নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করেন তৈজসপত্র-মাটির হাড়ি, সরা, কলস,ফুলের টবসহ আরো অনেক কিছু। এক সময় যশোর জেলার বাইরেও এসব মাটির তৈরি তৈজসপত্রের কদর ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে এ শিল্প। তাই স্বচ্ছলতা না থাকায় জীবন-জীবিকার তাগিদে আশা ছেড়ে দিচ্ছেন অনেকে। সরেজমিনে পালপাড়ায় গেলে রমেশ পাল,তপন পাল,বাদল পাল,সুভাষ পালসহ আরো অনেকে বলেন, বেচা-বিক্রি কম থাকায় সংসার চলছে না। সরকার বা অন্য কোনো সংস্থা থেকে এখনো পর্যন্ত আমরা তেমন কোন সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। পাইনি কোনো অনুদান।

মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত পালপাড়ার পলাশ পাল বলেন, আগে মাটি ফ্রি পাওয়া যেত। কিন্তু এখন মাটি কিনে নিতে হয়। বেশি খরচ হয়ে যায় তাই বেশি লাভ হয় না। অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক পরিবার এখন মৃৎশিল্পের কাজ ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়েছেন। তবে তাদের দাবি, বাঙালি সংস্কৃতির গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলেই ব্যবসার প্রসারসহ মৃৎশিল্পীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তাই এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতা দরকার।

দরাজহাট ইউপি চেয়ারম্যান আইুয়ব হোসেন বাবলু বলেন, করোনা সংকট মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে মৃৎশিল্পীদের খাদ্য সহযোগিতা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 54
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর