• সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৫ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

লকডাউনে কেমন চলছে চট্টগ্রাম

জেলা সংবাদদাতা
প্রকাশ হয়েছে : রবিবার, ৩ মে ২০২০ | ৪:৩৫ pm
                             
                                 

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশ জুড়ে বিভিন্ন জেলায় লকডাউন চলছে। ঘরে থাকার জন্য সবার কাছে নানান মাধ্যমে বার বার আহবান জানানো হচ্ছে। তা সত্ত্বেও কিছু মানুষ নানান অছিলায় বাইরে বের হচ্ছেন। তাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থেকে যাচ্ছে। শুধুমাত্র কয়েক জনের জন্য বহু মানুষের একটানা ঘরে বন্দি থাকা বিফলে যেতে পারে। সড়কে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। শুধু তাই নয়, গতকাল ক্ষুদ্র যানবাহনের পাশাপাশি স্বাভাবিক সময়ের মতো গণপরিবহন চলতেও দেখা যায়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সতর্কতা হিসেবে সবাইকে বাড়িতে থাকতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রাম নগর জুড়ে। লকডাউনের কদিন সবাই ঘরে অবস্থান করলেও গত দু’দিন থেকে ঘর বিমুখ হচ্ছেন। প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে নগরীর পাড়া-মহল্লা ও বাজারগুলোতে। চায়ের দোকান না থাকলেও গণজমায়েত করতে দেখা গেছে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে। বাজারগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। কয়েকটি রাস্তায় দেখা গেছে মানুষের জটলা।কোনো কোনো এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে তাড়া দিলে লোকজন বাড়ি বা গলিপথে ঢুকে যাচ্ছেন। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চলে যাওয়ার পরপরই সবাই বাইরে সড়কে নেমে আসছেন। সচেতনতার অভাবে মানুষ যেন ঘরে থাকতেই চাচ্ছে না। সবাই বলছে তারা জরুরি কাজে বাড়ির বাইরে বের হয়েছেন। রাস্তায় বেড়েছে যানবাহন। লকডাউন ও সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণার পরও মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়াই বের হচ্ছে মানুষজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও হাঁপিয়ে উঠছেন মানুষকে ঘরে রাখার চেষ্টা করে।

গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের অবাধ চলাচল দেখা গেছে। অন্যদিনের মতোই শহরে রিকশা, মোটরসাইকেল ও সিএনজি টেঙির পাশাপাশি বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে স্বাভাবিক সময়ের মতো বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুলতে হেলপারদের হাঁক ডাক করতেও দেখা যায়। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে যান চলাচলে বাধা দিলেও অনেকেই নানা অজুহাতে সেটি মানছেন না। এদিকে অবাধে চলাফেরার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করলেও নিত্যপণ্যের প্রয়োজনীয়তার দোহাই দিয়ে ঘোরাফেরা থাকছেই। আবার অনেকে শ্যাম্পু কেনা, দোকানের টাকা পরিশোধ করার মতো হাস্যকর অজুহাত দেখিয়ে করছেন বাজারে ঘোরাফেরা। অবাধ চলাফেরা নিয়ন্ত্রনে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মুদি দোকান খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। তবে এর তোয়াক্কা না করে অনেকেই দোকান খুলে বেচাকেনা করছেন।

সাইফউদ্দিন নামের এক ব‍্যবসায়ী, ঘরেই তো ছিলাম। টাকা ওঠাতে ব্যাংকে যাচ্ছি। টাকা না উঠালে খাবো কী। তবে, শহরে চিত্র দেখে মনে হচ্ছে – সবসময়ই বের হওয়া যাবে।
এদিকে জনগণকে ঘরে ফেরাতে শহরের কোথাও কোথাও ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে সেনা ও পুলিশ টহল দেখা গেছে। তারা প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে ঘরে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনার প্রাণঘাতি বিষয়টি বিবেচনায় এনে জনগনকে সচেতন করতে এবং নিরাপদ রাখতে আপ্রান চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। কিন্তু সাধারণ জনগন নিজেদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বিষয়টি গ্রহন করছে না। নাগরিক যদি নিজেরা দায়িত্ব পালন না করে তবে এর সংক্রমন থেকে বাঁচা সম্ভব না। আর প্রশাসনের একার পক্ষে জনসমাগম রোধ করা সম্ভব না। তবে প্রশাসনকে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে জনগণকে ঘরে থাকতে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়।

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম

সংবাদটি শেয়ার করুন


এই বিভাগের আরো খবর