• সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০, ০২:২০ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম
সাতক্ষীরা তালায় সড়ক দুর্ঘটনায়  আবু নাসের হাসপাতালের হিসাবরক্ষক সহ ২ জন নিহত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সরবরাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি ইসলামপুরে মাওলার ১৪৩০তম অভিষেক দিবস উদযাপন ৩ দিন পার হলেও প্রদীপ-লিয়াকতকে এখনো রিমান্ডে নেয়া যায়নি হাসপাতালে কোনও অনিয়ম অনুসন্ধান বন্ধ হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শরণখোলা সরকারী কলেজের অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম মামুন আর নেই দুলাল এমপি চত্ত্বর নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন সাঁথিয়ায় ৫০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক-৩ জয়পুরহাটে ট্রেনে কাটা পরে প্রান হারালেন যুবক স্বাস্থ্য বিধি মানা না হলে সকল বাস ও কোচে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার নির্দেশ ডিসির

ফলোআপ: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পূর্ব টুমচর সপ্রাবি’র অনিয়ম দুর্ণীতি

সরকারি মাল চুরি, অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত-অব্যাহতির দেড় বছর পর হাস্যকর জিডি!

উপজেলা সংবাদদাতা
প্রকাশ হয়েছে : রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০ | ৭:৫৫ pm
                             
                                 

আমাদের দেশে হরহামেশাই নানান ধরনের চুরির ঘটনা শোনা যায়। কোন চুরি ঘটে থাকে বড় আবার কোন চুরির ধরন হয়ে থাকে ছোট। আর চুরি হওয়া এই ঘটনাগুলো নিয়ে মামলা হয়। অনেক সময় চোর ধরা পড়ে, অনেক সময় পড়ে না। আবার চুরি যাবার পর তৎক্ষনাৎ মামলা করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পূর্ব টুমচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চূরির ঘটনা হতবাক করেছেন সকলকে। চুরির ঘটনাটি মানুষকে তেমন হতবাক না করতে পারলেও চুরির পরে মামলার ঘটনাটি হাসিয়েছে সকলকেই।

চুরি হওয়ার দেড় বছরে মালামাল উদ্ধার বা আইনী কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে নড়ে-চড়ে বসে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। এর আগে কোন ব্যবস্থা তো দুরের কথা শিক্ষা অফিস কর্তৃক তদন্ত, অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত ও পরে নাটকীয়ভাবে আবার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ফাইল ক্লোজ করা হয়। নেওয়া হয়নি চোরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জমা দেওয়া হয়নি সরকারের রাজস্ব্র।
বরং এই ঘটনার দেড় বছর পর সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী রিপোর্টের কারণে এখন আবার হাস্যকরভাবে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, ঘটনার দেড় বছর পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফেরদৌসি বেগম বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় থানায় মালামাল হারিয়ে যাওয়ার কথা লিপিবদ্ধ করে একটি জিডি করেছেন। জিডি নং- ৪৮৮, তারিখ ১০/০৬/২০২০।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালে পূর্ব টুমচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এর ২০১৯ সালে পুরাতন ভবনের ১৩১৬৪টি ইট, ৪২০০টি এমএস বার, ৪টি কাঠের দরজা, ৯টি দরজা সাঁটার, ২৩টি গ্রিলের জানালা, ৮৭টি জানালার ফ্রেম সাঁটার এর গত ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে নিলাম দেওয়া হয়। এর সর্বোচ্চ নিলাম ডাক দাতা মো: তৌফিকুল ইসলাম ৭৫ হাজার ১শ টাকায় নিলাম পায়। পরবর্তীতে মালামাল গুলো চুরি হওয়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সরকারি কোষাগারে আর কোনো টাকা জমা দেয়নি। তবে কে বা কারা মালামাল চুরি করেছে তা উল্লেখ করা হয়নি।

জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনছুর আলী চৌধুরী জানান, আমি নতুন এসেছি। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর জানতে পারলাম বিদ্যালয়ের মালামাল চুরি হওয়ার দেড় বছরেও কোনো আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ওই সময় শিক্ষা তদন্ত হয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরও কেনো আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা আমার জানা নেই। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে থানায় মামলা করার জন্য। তবে জিডি করা হয়েছে কেনো তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। এসময় উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শিক্ষা অফিসারকে (টিও) থানায় চিঠি দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া জানান, চুরি হলে শিক্ষা অফিস অফিসিয়াল চিঠি দেওয়ার কথা। ঘটনার দেড় বছর পর থানায় জিডি করেছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য: সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পূর্ব টুমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের মালামাল চুরি ও চুরির ঘটনায় ও বিভিন্ন দুর্ণীতি নিয়ে দৈনিক লক্ষ্মীপুর আলো পত্রিকায় সিরিজ সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক যাকে অভিযুক্ত করেছেন তাকেই আবার নিরপরাধ সাব্যস্ত করেছেন খোদ তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা শিক্ষা অফিসার। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করতে কোনরুপ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা, শিক্ষা অফিসের নাটকীয় পদক্ষেপ ও সর্বোপরী অভিযুক্তকে শাস্তি ও খালাস ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগম এর যোগসাজসে সহকারি শিক্ষক কামরুদ্দিন এ মালামাল গোপনে বিক্রি করেছেন। আর এ ঘটনায় মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নাটকীয় তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে অভিযুক্তকে নিরপরাধ সাব্যস্ত করারও অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিরুজ্জামান মোল্লা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু জাফর মোঃ সালেহ এর বিরুদ্ধে।
২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারী উক্ত নিলামকৃত মালামালগুলি চুরি হয়েছে বলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি বেগম। এ অভিযোগপত্রে একই স্কুলের সহকারি শিক্ষক কামরুদ্দিনকে অভিযুক্ত করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিরুজ্জামান মোল্লা অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক কামরুদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরবর্তীতে অদৃশ্য কারণে একই বছরের ১৪ মে কামরুদ্দিনকে চাকুরিচ্যুত না করে অভিযোগ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়। এরপরে কাগজে-কলমে চুরি হওয়া মালামালের বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসের তৎপরতা স্থগিত হয়ে গেছে।
তবে এসব নাটকীয় তদন্ত ও মালামাল উদ্ধার না করা ও কোন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় খোদ তৎকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু জাফর মোঃ সালেহ ও একই অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 3
    Shares


এই বিভাগের আরো খবর